যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন ট্রান্স-আটলান্টিক বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ইউরোজোনে পণ্য বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত বেড়েছে। এর মধ্যে গত সেপ্টেম্বরে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত নতুন গতি পেয়েছে। এমন সময়ে খবরটি এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতিসংক্রান্ত অস্থিরতা কিছুটা থিতু হয়ে এসেছে। খবর ইউরো নিউজ।
ইউরোস্ট্যাট প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গত সেপ্টেম্বরে ইউরোজোনে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪ কোটি ইউরোয়, যা আগস্টের ১৯০ কোটি ইউরোর তুলনায় অনেক বেশি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইউরো মুদ্রাভিত্তিক অঞ্চলটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ১ হাজার ২৯০ কোটি ইউরো।
টানা কয়েক মাস বাণিজ্য অস্থিরতার পর যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির বৃদ্ধি এবং রাসায়নিক খাতের উত্থানে ইউরোজোনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত নতুন গতি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে অঞ্চলটির বেশির ভাগ খাতে ১৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক প্রযোজ্য হচ্ছে।
ইউরো অঞ্চল থেকে গত সেপ্টেম্বরে রফতানি পৌঁছেছে ২৫ হাজার ৬৬০ কোটি ইউরোয়, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। আমদানি উন্নীত হয়েছে ২৩ হাজার ৭১০ কোটি ইউরোয়, বার্ষিক হারে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
সেপ্টেম্বরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়েছে ৫ হাজার ৩১০ কোটি ইউরোর পণ্য, যা বার্ষিক হারে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। আমদানিও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৯০ কোটি ইউরোয় উন্নীত হয়েছে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য উদ্বৃত্ত হয়েছে ২ হাজার ২২০ কোটি ইউরো, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের ১ হাজার ৮৫০ কোটি ইউরো উদ্বৃত্তের তুলনায় বেশি।
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বাড়লেও ইইউ থেকে চীনে পণ্য পাঠানোর হার কমেছে। সেপ্টেম্বরে চীনে রফতানি ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৭০ কোটি ইউরোয় পৌঁছে, যা চীনের অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাসের চিত্র তুলে ধরে।
এছাড়া সেপ্টেম্বরে ইউরোজোন থেকে তুরস্কে রফতানি হ্রাস পেয়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ভারত ও মেক্সিকোয় রফতানি বেড়েছে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৬, ৩ দশমিক ৫, ৭ দশমিক ৭ ও ১১ দশমিক ১ শতাংশ। আমদানির ক্ষেত্রে নরওয়ে থেকে অঞ্চলটিতে পণ্য পরিবহন বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এতে প্রধান অনুঘটক ছিল জ্বালানি ও কাঁচামাল সরবরাহ বৃদ্ধি।
সেপ্টেম্বরে ইইউর সম্মিলিত বাণিজ্য উদ্বৃত পৌঁছেছে ১ হাজার ৬৩০ কোটি ইউরোয়, যা আগস্টের ৪৫০ কোটি ইউরো ঘাটতির তুলনায় বেশ বড় অর্জন। এ পরিবর্তনের মূল কারণ হলো রাসায়নিক খাত, এতে উদ্বৃত্ত পৌঁছেছে ২ হাজার ৬৯০ কোটি ইউরোয়। এছাড়া গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ইইউর বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বেড়েছে ৬৮০ কোটি ইউরো।